প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক, দুটি অনুদান চুক্তি এবং একটি অভিপ্রায়পত্র সই হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুই দেশের মধ্যে এসব চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে।
সই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে টহলজাহাজ সরবরাহে অনুদান চুক্তি। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, কৃষি খাতে সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি (ইএসডিপি) বাস্তবায়ন ও কর্মসংস্থান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি অভিপ্রায়পত্রও সই হয়েছে।
জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়গুলো নিচে দেয়া হলো-
১. বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে টহলজাহাজ সরবরাহে অনুদান চুক্তি।
২. জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
৩. জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।
৪. দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি (ইএসডিপি) বাস্তবায়ন ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
৫. জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।
৬. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অভিপ্রায়পত্র (এলওআই)।
এর আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) চার দিনের সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
সফরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়াই এ সফরের মূল লক্ষ্য।